কখনো সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কখনো ব্রিগেডিয়ার বা কর্নেল।পরিচয় বদলে মানুষের বিশ্বাসই ছিল প্রতারণার প্রধান অস্ত্র। সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে ত্রাণের টাকা সংগ্রহ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা সেজে গ্রাহকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, আবার টেলিগ্রামে মোটা অঙ্কের আয়ের প্রলোভন!এভাবেই চলছিল দেশজুড়ে প্রতারণার ফাঁদ। অবশেষে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লায় টানা অভিযানে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মেহেরপুর ডিবি।
মেহেরপুর জেলা ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের তিন দিনের অভিযানে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লা থেকে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চকরিয়া, রামু, পেকুয়া, চান্দগাঁও, সোনাইমুড়ী ও দাউদকান্দিতে অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সাতজন হলেন, কক্সবাজারের চকরিয়ার মো. তালিপ (২০), পেকুয়ার জয়নাল (৩৪), রামুর মোহাম্মদ কাউছার (২৭), কক্সবাজার সদরের মো. মিরুয়ান (২৫), নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর আবুল কালাম (৬৭), টেকনাফের নুরুল আবছার (৩৩) এবং কুমিল্লার দাউদকান্দির মো. ইসমাইল মীর (২৪)।
ডিবি জানায়, সেনাবাহিনীর ভুয়া ক্যাপ্টেন, ব্রিগেডিয়ার ও কর্নেল পরিচয়ে ত্রাণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তালিপ ও জয়নালকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন কাউছার ও মিরুয়ান।
অন্যদিকে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে জালিয়াতি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আবুল কালাম, নুরুল আবছার ও ইসমাইল মীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি প্রতারণা মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মেহেরপুর ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ইন-চার্জ প্রদীপ কুমার সানা বলেন, 'প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারকদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর দেশের চার জেলায় টানা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সাতজনকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।'
জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ওসি ডিবি আরো বলেন, সরকারি বা ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে কেউ ফোন করে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য কিংবা গোপন PIN চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। সন্দেহজনক কল বা মেসেজ পেলেই পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।