দেশের অনলাইন জুয়া চক্রের অন্যতম শীর্ষ এজেন্ট মুর্শিদ আলম লিপু ও তার সহযোগী মুছাঈদ আলমকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি থানায় দায়ের হওয়া আরও তিনটি মামলায় তাদের পুনঃগ্রেপ্তারের আবেদনও মঞ্জুর করেছেন বিচারক।
রোববার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এই আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, লিপু ও মুছাঈদকে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে।
এর আগে গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) গভীর রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খড়িবিলা মোড়ে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে অনলাইন জুয়া চক্রের অন্যতম শীর্ষ এজেন্ট মুর্শিদ আলম লিপু ও তার সহযোগী মুছাঈদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত ১৬টি মোবাইল ফোন, তিনটি ল্যাপটপ ও বিভিন্ন ডিজিটাল উপকরণ জব্দ করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লিপু ও তার সহযোগীকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২০(২)/২১/২২/২৪(২)/২৭ ধারায় দায়ের করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে দুই আসামিকে শ্যামনগর থানার দুইটি ও আশাশুনি থানার একটিসহ তিনটি মামলায় পুনঃগ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
জেলা পুলিশের ইনসিডেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, মামলাটির তদন্তে এএসআই মো. সেলিম রেজা এবং ওয়াচার কনস্টেবল শরিফুল ইসলাম মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। জব্দ করা মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “দেশব্যাপী অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল প্রতারণা রোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লিপুর মতো এজেন্টরা বিদেশে অবস্থানরত চক্রের হয়ে দেশে জুয়ার অর্থ লেনদেন ও সার্ভার নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা তাদের আর্থিক নেটওয়ার্কও খতিয়ে দেখছি।”
তিনি আরও জানান, লিপুর বিরুদ্ধে ২০২১ সালে ঢাকার পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছিল (এফআইআর নং ৩৭/৫৭৩)। তার নামে সিআইডির মানি লন্ডারিং অনুসন্ধানও চলছে।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মুর্শিদ আলম লিপুকে “দেশের অনলাইন জুয়ার অন্যতম হোতা” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি রাশিয়ায় অবস্থানরত একটি আন্তর্জাতিক চক্রের হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন জুয়া সার্ভার পরিচালনা করতেন।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের কার্যক্রমের সঙ্গে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

খান মাহমুদ আল রাফি ও গাজী ফরহাদ 













