ঢাকা , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পরও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুরের দুই আসনে দাঁড়িপাল্লার জয়ঃ গণভোটে “হ্যা” মেহেরপুরে ৮.৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন মেহেরপুরে ডিবির অভিযানে ১০ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তার-১ মেহেরপুর জেলা জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন মেহেরপুরে ধানের শীষের প্রচারণার দায়িত্বে প্রিন্স আহমেদ ইমরান একাই তিন পদ, এক যুগ এক জেলাঃ মেহেরপুর মেহেরপুরে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে ‘সুপার ক্যারাভান’ প্রচারণা মেহেরপুর-১ আসনের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপি নেত্রী রোমানা আহমেদ মেহেরপুরে দুটি বিদেশি পিস্তল ও ৫ রাউন্ড গুলিসহ দুই যুবক আটক অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্ট প্রসেনজিৎ হালদার গ্রেপ্তার
বিজ্ঞপ্তি :
শীঘ্রই শুভ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে মেহেরপুর নিউজ এর  বস্তুনিষ্ঠ তথ্যে, চারপাশের খবর" নিয়ে শীঘ্রই আসছে মেহেরপুর নিউজ অনুসন্ধানী সংবাদ

মেহেরপুরে পদ্মফুল তুলতে গিয়ে একই পরিবারের ৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের মশুরিভাজা বিলে পদ্মফুল তুলতে গিয়ে একই পরিবারের তিন সহোদরের চার কণ্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- আব্দুস সামাদের মেয়ে ফাতেমা (১৪) ও আফিয়া (১০), ইরাকপ্রবাসী সাহারুল ইসলামের মেয়ে আলেয়া (১০) এবং ইসহাক আলীর মেয়ে মিম (১৪)। নিহত সবাই রাজনগর গ্রামের মল্লিকপাড়ার বাসিন্দা। ফাতেমা মোমিনপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী, মিম একই শ্রেণির ছাত্রী আমঝুপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে। আর আফিয়া ও আলেয়া চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত বারাদি তৃণমূল মডেল একাডেমিতে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর দেড়টার দিকে চার শিশু একসঙ্গে বিলে পদ্মফুল তুলতে যায়। বিকেল গড়িয়ে গেলেও তারা আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর বিলপাড়ে তাদের স্যান্ডেল ও কাপড় পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়। পরে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। একজন নিখোঁজ থাকায় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। পরে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে বিলের একটি গভীর গর্ত থেকে শেষ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার শামীম হোসেন বলেন, ‘স্থানীয়রা তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একজনকে খুঁজে না পেয়ে আমাদের খবর দেয়। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিলের একটি গভীর গর্ত থেকে শেষ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করি।’
বারাদি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, তারা ফুল তুলতে গিয়ে বিলে থাকা একটি গভীর গর্তে পড়ে যায়। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’
মেহেরপুর সদর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শাপলা তুলতে গিয়ে পিচ্ছিল কাদায় পড়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়।’
চার শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজনগর গ্রামে নেমে আসে নিস্তব্ধ শোক। একসঙ্গে চারটি মরদেহ, তিন পরিবারের বুকফাটা আহাজারি পুরো গ্রামজুড়ে যেন কান্নার মাতম।
নিহতদের প্রতিবেশী এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ওরা প্রতিদিনই বিকেলে বিলে যেত। আজও গিয়েছিল ফুল তুলতে। কে জানত, আর ফিরবে না কেউ।’
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে মিরপুর জেলা ও সদর উপজেলা প্রশাসনের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত চার শিশুর পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’

অনুগ্রহ করে আপনার মতামত আমাদের পাঠান

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পরও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুরের দুই আসনে দাঁড়িপাল্লার জয়ঃ গণভোটে “হ্যা”

মেহেরপুরে পদ্মফুল তুলতে গিয়ে একই পরিবারের ৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

আপলোডের সময় : ০২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের মশুরিভাজা বিলে পদ্মফুল তুলতে গিয়ে একই পরিবারের তিন সহোদরের চার কণ্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- আব্দুস সামাদের মেয়ে ফাতেমা (১৪) ও আফিয়া (১০), ইরাকপ্রবাসী সাহারুল ইসলামের মেয়ে আলেয়া (১০) এবং ইসহাক আলীর মেয়ে মিম (১৪)। নিহত সবাই রাজনগর গ্রামের মল্লিকপাড়ার বাসিন্দা। ফাতেমা মোমিনপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী, মিম একই শ্রেণির ছাত্রী আমঝুপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে। আর আফিয়া ও আলেয়া চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত বারাদি তৃণমূল মডেল একাডেমিতে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর দেড়টার দিকে চার শিশু একসঙ্গে বিলে পদ্মফুল তুলতে যায়। বিকেল গড়িয়ে গেলেও তারা আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর বিলপাড়ে তাদের স্যান্ডেল ও কাপড় পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়। পরে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। একজন নিখোঁজ থাকায় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। পরে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে বিলের একটি গভীর গর্ত থেকে শেষ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার শামীম হোসেন বলেন, ‘স্থানীয়রা তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একজনকে খুঁজে না পেয়ে আমাদের খবর দেয়। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিলের একটি গভীর গর্ত থেকে শেষ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করি।’
বারাদি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, তারা ফুল তুলতে গিয়ে বিলে থাকা একটি গভীর গর্তে পড়ে যায়। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’
মেহেরপুর সদর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শাপলা তুলতে গিয়ে পিচ্ছিল কাদায় পড়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়।’
চার শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজনগর গ্রামে নেমে আসে নিস্তব্ধ শোক। একসঙ্গে চারটি মরদেহ, তিন পরিবারের বুকফাটা আহাজারি পুরো গ্রামজুড়ে যেন কান্নার মাতম।
নিহতদের প্রতিবেশী এক নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ওরা প্রতিদিনই বিকেলে বিলে যেত। আজও গিয়েছিল ফুল তুলতে। কে জানত, আর ফিরবে না কেউ।’
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে মিরপুর জেলা ও সদর উপজেলা প্রশাসনের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত চার শিশুর পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’