
যে ব্যক্তি ঘুষ খাচ্ছে সে যেমন অপরাধী, তেমনি যিনি ঘুষ দিচ্ছেন তিনিও সমান অপরাধী। দুর্নীতি বিষয়ে এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মেহেরপুরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসের আলোচনা সভায় সততার চর্চা ও জবাবদিহির উপর জোর দিলেন জেলা পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়। তাঁর মতে, শুধু একজনকে দোষী দেখালে হবে না, ঘুষ গ্রহণকারী ও প্রদানকারী উভয়কেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা না গেলে দুর্নীতির মূল শেকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসের আলোচনায় পুলিশ সুপারের বক্তব্যের পর পুরো মিলনায়তনে নতুন আলোচনার জন্ম হয়, দুর্নীতির দায় কে নেবে?
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবীর বলেন, ‘দেশের সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা দপ্তরে একই প্রকল্প পুনরাবৃত্তি ও বিদ্যমান আইনে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার অভাব সমস্যাকে আরও জটিল করছে। মানুষের সেবা করা সরকারি কর্মকর্তাদের মৌলিক দায়িত্ব, উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই জায়গায় সততার পরিচয় না দিলে উন্নয়ন কাগজে থাকবে, বাস্তবে নয়, দায়ভার আমাদেরই।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘শুধু দিবস পালন বা আলোচনা সভা করলেই দায় শেষ হয় না। স্বজনপ্রীতি আর ঘুষের চক্র ভাঙতে না পারলে সব আয়োজন দেখানোর জন্যই থেকে যাবে। তারুণ্যের কাঁধে দায় চাপিয়ে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখার সময় শেষ। শপথ নিতে হবে আমাদেরই।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, দুদকের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদ, জেলা তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও নিরাপদ খাদ্য অফিসার রিয়াজ মাহমুদসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সততা, জবাবদিহি ও নৈতিকতার চর্চা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে সকল বক্তা অনুষ্ঠানের প্রায় একই সুরে বলেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ চাইলে কথার চেয়ে কাজে পরিবর্তন আনতে হবে আগে, এখনই।

খান মাহমুদ আল রাফি 










