মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে আমবাগানে নিয়ে বলাৎকারের অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত যুবক মো. জুয়েল (১৯) গাংনী উপজেলার চৌগাছা গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী শিশুটিও একই গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিশুটির পরিচয় আইনগত ও মানবিক কারণে প্রকাশ করা হলো না।
মামলার এজাহার ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুটি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চৌগাছা ভিটাপাড়ার প্রথম পুল এলাকায় মাছ ধরা দেখতে যায়। সেখানে অভিযুক্ত জুয়েলের সঙ্গে তার দেখা হয়। জুয়েল মাছ দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ওই স্থান থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি আমবাগানে নিয়ে যান। আমবাগানে নেওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির মুখ চেপে ধরে যৌন নির্যাতন করে। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করলে অভিযুক্ত তাকে ছেড়ে দেন। পরে ঘটনাটি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার পর শিশুটি ভয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি। পরদিন সকালে শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যথার কারণে শিশুটি কান্নাকাটি করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে সে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানায় বলে বাদীর অভিযোগ।
পরে শিশুটিকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে অভিযুক্ত জুয়েলের বিরুদ্ধে গাংনী থানায় মামলা করেন।
গাংনী থানা পুলিশ জানায়, মামলার পর অভিযান চালিয়ে রোববার ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫০ মিনিটে গাংনী উপজেলার গাড়াডোব এলাকায় অভিযুক্তের নানার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘১২ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার পর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’