ঢাকা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাংনীতে শিশু বলাৎকারের অভিযোগে এক যুবক গ্রেপ্তার মুখে বিষ ঢেলে ১১ মাসের শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, মা আটক ভারতে যাওয়ার পথে মেহেরপুর জেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক খালেক গ্রেপ্তার ভুয়া সেনা কর্মকর্তা ও ব্যাংকারের ভয়ংকর প্রতারণাঃ দেশজুড়ে গ্রেপ্তার ৭ মেহেরপুরে এসপির নামে চাঁদাবাজি চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার ডিবির অভিযানে গাংনীতে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গাংনীতে ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় ‘বোমা হোসেন’ গ্রেপ্তার মেহেরপুরে ডিবির সাঁড়াশি অভিযানঃমাদক-জুয়ায় গ্রেপ্তার ৪ বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে নিল বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয়কে আটক গ্রামবাসীর মেহেরপুরে ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার, মধুগাড়ী ঘাটে নিষ্ক্রিয়

‘মাইন’ ঘিরে আতঙ্ক

৩৬ ঘণ্টায়ও মেহেরপুরে পৌঁছায়নি বোমা ডিসপোজাল ইউনিট

খান মাহমুদ আল রাফি
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ১১৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে মাইন সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি বোমা ডিসপোজাল ইউনিট। ফলে শনিবার সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় ঘিরে রাখা এলাকাটিতে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন স্থানীয়রা।
শনিবার সকালে বেতবাড়িয়া গ্রামের কালু মালিথার একটি পরিত্যক্ত জমিতে মাইন সদৃশ একাধিক বস্তু দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অন্তত ১০টি চাটকি সদৃশ বস্তু ও কয়েকটি বড় বক্স দেখতে পায়। বক্সগুলোর কয়েকটিতে ‘MPI 1967 MINE A/PERS ND P2 MK2’ লেখা রয়েছে।
তবে এসব বস্তু প্রকৃত ল্যান্ডমাইন, ট্যাংক বিধ্বংসী মাইন, ডেমো মাইন, বোমা নাকি অন্য কোনো বস্তু, সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের অপেক্ষায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জননিরাপত্তার স্বার্থে শনিবার থেকেই ঘটনাস্থলটি কর্ডন করে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা পাহারা দিচ্ছেন। স্থানীয়দের ওই এলাকায় প্রবেশ না করতে সতর্ক করা হয়েছে।
পুলিশের সূত্র জানায়, বিষয়টি জানিয়ে শনিবারই পুলিশ সদর দপ্তরে বোমা ডিসপোজাল ইউনিট পাঠানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। পরে যশোর সেনানিবাস থেকে একটি বোমা ডিসপোজাল ইউনিট পাঠানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যশোর সেনানিবাস থেকে একজন মেজরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল পাঠানোর কথা মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে রোববার বিকেল পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। যেকোনো সময় দলটি মেহেরপুরের উদ্দেশে রওনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস বলেন, ‘জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল কর্ডন করে পাহারা বসানো হয়েছে। বোমা ডিসপোজাল ইউনিট এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, ‘যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে আজই টিম পাঠাবে বলে আমাদের মৌখিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। সদস্যদের টিম চলে আসার পরপরই বস্তুগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা ধরে এলাকাটি ঘিরে রাখা হলেও সন্দেহজনক বস্তুগুলোর প্রকৃতি নিশ্চিত না হওয়ায় স্থানীয়দের উৎকণ্ঠা বাড়ছে। অনেকেই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটানোর কথা জানিয়েছেন। দ্রুত বোমা ডিসপোজাল ইউনিট পাঠিয়ে এসব বস্তু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘মাইন’ ঘিরে আতঙ্ক

৩৬ ঘণ্টায়ও মেহেরপুরে পৌঁছায়নি বোমা ডিসপোজাল ইউনিট

আপডেট সময় : ১২:২৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে মাইন সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি বোমা ডিসপোজাল ইউনিট। ফলে শনিবার সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় ঘিরে রাখা এলাকাটিতে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন স্থানীয়রা।
শনিবার সকালে বেতবাড়িয়া গ্রামের কালু মালিথার একটি পরিত্যক্ত জমিতে মাইন সদৃশ একাধিক বস্তু দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অন্তত ১০টি চাটকি সদৃশ বস্তু ও কয়েকটি বড় বক্স দেখতে পায়। বক্সগুলোর কয়েকটিতে ‘MPI 1967 MINE A/PERS ND P2 MK2’ লেখা রয়েছে।
তবে এসব বস্তু প্রকৃত ল্যান্ডমাইন, ট্যাংক বিধ্বংসী মাইন, ডেমো মাইন, বোমা নাকি অন্য কোনো বস্তু, সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের অপেক্ষায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জননিরাপত্তার স্বার্থে শনিবার থেকেই ঘটনাস্থলটি কর্ডন করে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা পাহারা দিচ্ছেন। স্থানীয়দের ওই এলাকায় প্রবেশ না করতে সতর্ক করা হয়েছে।
পুলিশের সূত্র জানায়, বিষয়টি জানিয়ে শনিবারই পুলিশ সদর দপ্তরে বোমা ডিসপোজাল ইউনিট পাঠানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। পরে যশোর সেনানিবাস থেকে একটি বোমা ডিসপোজাল ইউনিট পাঠানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যশোর সেনানিবাস থেকে একজন মেজরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল পাঠানোর কথা মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে রোববার বিকেল পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। যেকোনো সময় দলটি মেহেরপুরের উদ্দেশে রওনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস বলেন, ‘জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল কর্ডন করে পাহারা বসানো হয়েছে। বোমা ডিসপোজাল ইউনিট এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, ‘যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে আজই টিম পাঠাবে বলে আমাদের মৌখিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। সদস্যদের টিম চলে আসার পরপরই বস্তুগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা ধরে এলাকাটি ঘিরে রাখা হলেও সন্দেহজনক বস্তুগুলোর প্রকৃতি নিশ্চিত না হওয়ায় স্থানীয়দের উৎকণ্ঠা বাড়ছে। অনেকেই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটানোর কথা জানিয়েছেন। দ্রুত বোমা ডিসপোজাল ইউনিট পাঠিয়ে এসব বস্তু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।